- by Super Admin
- Mar 19, 2026
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী জানান, গত তিন বছরে ব্যাংকটি শুধু ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিই অর্জন করেনি, বরং শেয়ারহোল্ডারদের জন্যও উল্লেখযোগ্য মূল্য সৃষ্টি করেছে। ২০২২ সালে ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য যেখানে ১৬ থেকে ২০ টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা ৩৭ টাকারও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে ধারাবাহিক স্টক ডিভিডেন্ডের কারণে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১,৫৬০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের মূল্য তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি এই সাফল্যের জন্য ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়িক অংশীদার, গণমাধ্যম এবং পরিচালনা পর্ষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সুশাসন, দক্ষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে পূবালী ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে আস্থা ও সাফল্য অর্জন করে চলেছে।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও পূবালী ব্যাংক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ব্যাংকের PI Digital প্ল্যাটফর্মে ২০২৫ সালের শেষে ৫ লাখ ২৮ হাজারের বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছেন এবং এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৮৬ লাখেরও বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় ব্যবহারকারী বেড়েছে ৭৮ শতাংশ এবং লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৫ শতাংশ, যা গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রতি বাড়তি আস্থার প্রমাণ।
ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের ২৫ হাজার ৫২৫টি মার্চেন্ট পিওএস টার্মিনাল এবং ১ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি বাংলা কিউআর (Bangla QR) স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা এবং সাধারণ মানুষের জন্য নগদবিহীন লেনদেন আরও সহজ, নিরাপদ ও জনপ্রিয় হয়েছে।
সারা দেশে ব্যাংকটির ৫১৭টি শাখা, ২৭৪টি উপশাখা, ২২টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো এবং ৯০১টি এটিএম ও সিআরএম কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা গ্রাহকদের আরও সহজে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে।
আর্থিক সূচকেও পূবালী ব্যাংক শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে আমানত বেড়ে হয়েছে ৮৯ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা।
শেয়ারহোল্ডারদের জন্যও ব্যাংকটি ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) দাঁড়িয়েছে ৮.৩০ টাকা, রিটার্ন অন ইক্যুইটি (ROE) হয়েছে ১৫.৫১ শতাংশ এবং মূলধন পর্যাপ্ততার হার (CRAR) ১৫.৩৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালের শেষে পূবালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের (NPL) হার ছিল মাত্র ২.২০ শতাংশ, যেখানে ব্যাংকিং খাতের গড় খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩০.৬০ শতাংশ। উন্নত ঋণ ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স কার্যক্রমেও পূবালী ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকার রপ্তানি, ৪৭ হাজার ৩১৩ কোটি টাকার আমদানি এবং ১১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স পরিচালিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে পূবালী ব্যাংক দেশের অন্যতম সফল ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংক হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।